শারদ
সংখ্যা


Childhood memories

ফেলে আসা সেইসব দিনগুলি

জয়ন্ত দত্ত




শৈশব পুতিগন্ধময় অন্ধকার ঘরে থাকা আমার পৃথিবী। প্রায়শই হাঁসফাঁস করে একচিলতে আকাশের জন্য। চিৎকার চেঁচামেচির মাঝে খুঁজে বেড়াতাম একটুকরো শান্তির আকাশ। একজন আঁকার মাস্টারমশাই প্রথম আমাকে বহির্বিশ্বের খবর দিলেন। শক্ত করে প্রাণপনে ধরি তাঁর হাত। সেও কচি হাতটা আঁকড়ে ধরে। ভাবনা চিন্তা ঘুড়ি হয়ে আকাশে পাক খেতে লাগল। সাদা কাগজ আর পেন্সিল দিয়ে পড়ার টেবিল আলো করে বসে থাকি। দেখি অন্ধকারগুলো আর আমাকে গিলে খেতে আসে না। তখন থেকেই আমি একটু একটু করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে।


আমার ছেলেবেলার বড় প্রাপ্তি ছিল ওই আঁকার স্কুল। শিক্ষক ছিলেন স্বর্গীয় তাপস কুমার বড়ুয়া। শুধু কি আঁকার ক্লাস! সাথে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস কতকিছু বিষয় উঠে আসতো। স্যার আমাদের প্রথমে একটি গল্প বলতেন। তারপর আমরা কল্পনা মিশিয়ে ছবি আঁকতাম। যখনই কোনো আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসতো, বসে পড়তেন আমার সামনে। আমিও কচি হাতে তাদের পোট্রেট এঁকে দিতাম কয়েক মিনিটেই। একটি ঘটনা মনে পড়লে এখন বেশ হাসি পায়। একবার পাড়ার এক দাদা এসে বলল, তুই হাত আঁকতে পারিস! আমিও মাথা নেড়ে সম্মতি জানাই। উনি বললেন, আঁকতে পারলে প্রচুর রং পারি। পরে বুঝলাম একটি গোল বৃত্তের মধ্যে একটি হাতের চিহ্ন আঁকতে হবে। নীচে লিখতে হবে, হাত চিহ্নে ভোট দিন। তখন অবশ্য ভোটের মানে বুঝতাম না। প্রাইমারীতে পড়ি। মজার ব্যাপার হল সেই দাদার ঘাড়ে বসে আঁকা যে কি কঠিন ছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। আঁকতে গিয়ে বারে বারে নড়ে যায়। তবু কিছু একটা দাঁড় করিয়েছিলাম। পাড়ার সেই দাদাও খুশি হয়ে এক বাক্স ক্যামেল ওয়াটার কালার কিনে দিয়েছিল। তাই পেয়ে কি যে আনন্দ হয়েছিল!



আমাদের আঁকার ক্লাস যে শুধু স্কুলের ভেতরেই হত এমনটা নয়। প্রায়শই স্যার আমাদের কাছে পিঠে গ্রামগুলিতে নিয়ে হাজির হতেন। ওখানে আমরা কালার পেন্সিল পেপার নিয়ে বসে পড়তাম। এক একজনকে এক একটা সাইটের সামনে বসিয়ে আঁকতে বলতেন। পরে সেগুলো ক্লাসে এসে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেত। স্যারের ক্লাসে সিনিয়রদের সাথে খুব কম বয়সেই আমি ওয়াশ পেন্টিং করার সুযোগ পাই। প্রসঙ্গত বলে রাখি যে ওয়াশ পেন্টিং খুব শ্রমসাধ্য কাজ ছিল। এক একটি কাজ শেষ করতে দু-মাস সময় লেগে যেত।আমাদের দেশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই কাজ শুরু করেছিলেন। প্রথমে যে কোনো বিষয় ধরে সাদা আর্ট পেপারের ওপর ছবি আঁকতে হত। ছবি আঁকার পর ফাইনাল স্কেচ করা হত আর্ট পেপারের ওপর। তারপর হালকা রং চাপিয়ে চৌবাচ্চায় কিংবা কলের নীচে মেলে ধরতে হত কিছুক্ষণ। এতে রং কিছুটা উঠে যায়।কিন্তু কিছু রং পাকাপাকি ভাবে থেকে যায়।কাগজ শুকিয়ে যাওয়ার পর আবার রং করা এবং পুনরায় ভেজানো। এভাবে চারপাঁচ ধাপের পির রং একটি গাঢ় হলে মোটা ফ্ল্যাট ব্রাশ দিয়ে শেডিংযের জন্য ওয়াশ করা ও সবশেষে তুলি দিয়ে ফিনিশিং টাচ দেওয়া হত। তারপর তুঁতে আঠা দিয়ে ছবির চারদিকে সাদা কাগজ দিয়ে মাউন্ট করা হত। সেই সময়ে করা কিছু ওয়াশ পেন্টিং এখনো আমার সংগ্রহে আছে। আমাদের স্কুলে বছরে একবার করে আনুয়াল এক্সিবিশন হত। সে সময় একমাস ধরে স্যারের বাড়িতে কাজ হত। প্রায়শই দুপুরে আমরা স্যারের বাড়িতে থেকে যেতাম। ওখানেই খাওয়ার ব্যবস্থা হত। সারাদিন হই হই করে কিভাবে যে দিনগুলো কেটে যেত! আজকাল আমার ছেলেও আঁকে। ওর মাস্টার মশাই ওদের আঁকতে দিয়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দেখি বাচ্চাগুলি যন্ত্রের মত আঁকছে। সারা ঘর নিস্তব্ধ। আমি শুনতে পাই স্যারের গলা ভেসে আসে দূর প্রান্ত থেকে।


এবার আসা যাক আমার ছেলেবেলার কিছু মজাদার ঘটনার কথায়।



বাড়িতে  আমরা মোট চার ভাই ও এক দিদি ছিলাম। দিদি সবার বড়। আর আমি সকলের ছোট। খেলার সময় আমি ছিলাম দুধেভাতে। বুঝতাম কোথাও একটা আমাকে অবহেলা করা হচ্ছে, তবু অবাঞ্ছিত ভাবেই সই। বড়দের মাঝে জায়গা পেতাম, এইছিল আমার গৌরব।


আমাদের একটা পুকুর ছিল। গরমকালে যখন আকাশে জলের অভাব পড়ত তখন সব জল বাষ্প হয়ে ওই আকাশে উঠে যেত। সারাবছরে শুধুমাত্র ওই গরম কালেই আমরা পুকুরের শেষ মাটি টুকু পর্যন্ত ছুঁতে পারতাম। খটখটে মাটির ওপর সবুজ ঘাসের চাদর আমাদের গ্রীষ্মের ছুটিটাকে আলাদা একটা জায়গা করে দিত। রান্নাবাটিটা ছিল কমন। তবে যে সে রান্না বাটি নয়, যাকে বলে একেবারে দায়িত্ব নিয়ে সংসার করা। আমার বড়দি হত দিদিমণি। আমার খুব রাগ হত, কারন আমাকে ওরা কখনো মাস্টার হতে দেয়নি। আমি ছিলাম আজন্ম কালের কমন ছাত্র। আমার বড়দি করত রান্না। ছোড়দা হত মুরগি। ডিমের খোলা বাসায় রেখে কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে ডিম পাড়ত। আর সেই ডিম গুলো আমরা মিছি মিছি খেতাম। আর আমার দাদারা বেশীর ভাগ দিনটাই বাজার করে কাটাত। বেচারা আগাছা কুগাছা ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে আসত। ওগুলো নাকি পালং শাক, ঢেরস, লুচিপাতা গুষ্টির পিন্ডি! এখন পথ চলতি ওই জংলা গাছ গুলো দেখি, একটু থমকে দাঁড়াই আর মনে একা একা হাসি। ওই গাছ গুলোও হয়ত আমাকে দেখে হাসে। আর হাত নেড়ে বলে। কিরে  ভালো আছিস? পুরানো দেওয়ালে একরকমের ছোট ছোট পাতা হত। একটা ডালে চারটে করে পাতা। সম্ভবত নামটা তার আমরুল।খেতে কেমন টকটক। ওগুলো তখন মনের আনন্দে খেতাম। এখনো রাস্তার ধারে মাঝে মাঝেই দেখি। কিন্তু তুলে খেতে ঘেন্না লাগে অথবা লজ্জা। গরম কালে আম আর সরস্বতী পুজোর সময় কুল। দুপুর বেলা এর ওর গাছ থেকে রোমাঞ্চকর অভিযানে, ঢিল মেরে রীতিমতো চুরি করে এনে শিল নোড়ায় বেটে নুন লঙ্কা দিয়ে....আহ! সে কি স্বাদ! এখনো যেন জিভের আগায় লেগে আছে!


এখন দশটাকা দিলে বাজারে এক মুঠো কুল। যদিও চুরি করার মতো তেমন আর কোনো দুপুর নেই, সাহস নেই, গাছ নেই, সত্যি বলতে অনেকটা বড়োও হয়ে গেছি!


ছোট বেলায় ফুলের পাপড়ি ছিড়ে থুথু দিয়ে নাকের পড়তাম, আর গামছা পাকিয়ে চুল বাঁধতাম। সব কারসাজি যে দিদির ছিল। দিদিকে দেখেই অনেক কিছু শিখতাম। নকল করতাম। কিছুটা ছিল আমার সহজাত। অনেকটা যেন অকৃত্রিম ভাবে ভিতর থেকে উগরে আসত। তখন তো অনেক ছোট ছিলাম। বুঝতাম না যে আমাকে ওগুলো সাজতে নেই। কোনো চক্ষু লজ্জা ছিলনা! দিদি মনের সুখে সাজাত, আর আমিও আমার নিষ্পাপ মনের নির্ভেজাল আনন্দ গুলোকে ওদের সাথে ভাগ করে নিতাম। আমাদের পাশের বাড়ির এক ডাক্তার জেঠুর ছেলে ছিল। দিদি আমাকে খালি মেয়ে পুতুল বানিয়ে ওর সাথেই বিয়ে দিত। দিদি বড্ড চালাক ছিল, হয়তো বা বোকা! দিদি ভাবত ছেলেদের সাথে ছেলেদের মিছিমিছি বিয়ে হয় কিন্তু সত্যি কারের বিয়ে কখনই হয়না! তাই ওরা ভুলেও কখনো আমার কোনো বোনের সাথে ডাক্তার জেঠুর ছেলেকে বিয়ে দিতনা! কবে যেন কি কারনে সেই ডাক্তার জেঠুরা বহুকাল আগে এখান থেকে বাড়ি বিক্রি করে কোথায় যেন চলে গেছে! সত্যি বলতে সেই দাদার মুখটা এখন আমার ঠিকঠাক মনেও পড়েনা! আজ মাথায় গামছা দিয়ে খোঁপা বাঁধলে লোকে নয়ত লেডিস আর নয়ত বলবে বৌদি। তাই মাথার গামছা গুলো কেউ দেখার অনেক কাল আগেই কোথায় যেন লুকিয়ে ফেলেছি!


Childhood memories


আমাদের আরো অনেক খেলা ছিল- 


বুড়ি বাসন্তী, একশো পাতা,  বুড়িগঙ্গা, ল্যাংচা, গাদী, কাবাডি, আলতা কুমির, কাকজোড়া, সাত পিট্টু, কিতকিত, লুকোচুরি, মালা মালা, কলা গাছ, রুমাল চোর, কানামাছি, মামা আম পাড়ে ডিং ডং ডিং- আরো কতকিছু। অনেকটা আজ আমারো মনে নেই! কাউকে সেসব খেলা বহুকাল হল খেলতে দেখিনি! অনেকে হয়ত সেসব খেলার নামও শোনেনি। কি করে বোঝাই আপনাদের। সেই খেলা গুলো কতটা সুন্দর ছিল, কতটা প্রান ছিল। খোলা মাঠ, ঘাস, পড়ন্ত বিকেল আর মুক্ত হাওয়া। নেই কোনো পিছুটান। শুধু আছে আমার কোর্টে আমার ম্যানকে জেতানোর দেদার উদ্যোম। শুধু দৌড় দৌড় আর দৌড়। যেনো হাওয়ায় উড়তাম।


আমরা যেই মাঠটায় খেলতাম সেখানটা আর চেনা যায় না। আগত নতুন প্রতিবেশী দের বললে তারা বিশ্বাস করেনা যে সেখানে এক সময় অতো বড়ো মাঠ ছিল। সত্যি বলতে আমারো মাঝে মাঝে বিশ্বাস হয়না! এখন সেই প্রানের ওপর কংক্রিটের সব মস্ত মহলা বাড়ি। আমাদের শৈশবের স্মৃতিকে বুকে আগলে তলানিতে ঠেকেছে সেই সে পুকুর ছোট্ট একটা নোংরা ডোবায়। আমাদের আর একটা খেলা ছিল ঝোপ দিয়ে ফড়িং ধরা। কখনো ফড়িংয়ের লেজে সুতো বেঁধে উড়িয়ে দিতাম।বেচারা ফড়িং কিছু দূর গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়তো। আর সকালে বিকেলে ঘুড়ি ওড়ানো সেসময় প্রচলিত রীতি ছিল। কাঁচ গুঁড়ো দিয়ে ঘুড়িতে মাঞ্জা দেওয়া সে অভিজ্ঞতা সে সময় সকলেরই ছিল। মাঝ আকাশে ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াইও চলত। ঘুড়ি কেটে গেলে উড়ে গিয়ে কোথায় যে পড়ত! আমরা বড় বড় ডালপালা নিয়ে খোঁজ লাগাতাম।



আমাদের রাতের খেলা ছিল লুডো, রাম শ্যাম যদু মধু, আর সিঙ্গাড়া। ছোটো বেলায় আরো সব মধুর স্মৃতি। পাঁচ আঙুলে পাঁচটা হলুদ পাঁপড়, হাতি ঘোড়া বিস্কুট, কারেন্ট নুন, টিকটিকি লজেন্স। আর পুজোয় ছিল দশ টাকার চশমা, হাতে টিপটপ, আর নয়ত বন্দুক সাথে লাল লঙের ক্যাপ। ফটফট ফটাস!


আমাদের বিড়াট বড়ো  বারান্দায় সবাই গোল করে বসতাম। একটা হ্যারিকেন আর একটা ল্যাম্প। আমরা বলতাম লম্প। সেটাকে ঘিরে গোল করে বসে সব ভাই বোনেরা পড়তাম। পড়তাম কম আর ঢুলতাম বেশী! আর আমার মেজদা খালি মশা মাছি যা পারত সব মেরে হ্যারিকেনের ভিতর ঢুকিয়ে দিত! আর সে কি গন্ধ! গন্ধটা যেন আজো আমার নাকে ভাসে! এমন কিছু গন্ধ অদ্ভুত হলেও সেগুলো সত্যিই কখনো ভোলা যায় না! আমার ঠাকুমার অনেক গরু ছিল। আমরা একেকটা  পোষ্য গরুকে নিয়ে মাঠে যেতাম। গরুর দড়ি হাতে ধরলে অদ্ভুত একটা সোঁদা গন্ধ হাত দিয়ে বের হয়। বিশ্বাস করুন আজও যেন সেই গন্ধ গুলো আমি হাতে পাই। আজও যেন আমার চোখের সামনে দিয়ে সত্যি সত্যিই শক্তিমান ভোঁ ভোঁ করে উড়ে যায়! অনেককাল ডিডি বাংলার লালকমল নীলকমলের সাথে আমার দেখা হয়নি! কিন্তু আজও চোখ বন্ধ করলে ওদেরকে আমি স্পষ্ট দেখতে পাই! আমাদের পিছন দিকে আরেকটা পুকুর ছিল। সবাই ওটাকে বলত আমড়া তলার পুকুর। কেনো বলত জানিনা! সত্যি বলতে ওই পুকুরের ধারে পাশে কখনো একটা আমড়া গাছও দেখিনি। দুপুর বেলা ওই পুকুরের ছায়া ঘেরা সুনিবিড় বনতল কি যেন এক মায়াময় জগৎ গড়ে তুলত! ঢেপল গাছের আগায় উঠে পুকুরটায় দেদার লাফ। লাফালাফি ঝাপাঝাপি করে অত গভীর পুকুরের জল একেবারে কাদা করে দিতাম। পুকুরের ওপারটায় ছিল জোড়া তালগাছ। আমরা সাঁতার কেটে ভুলেও কখনো ওপারে যাইনি! বড়রা বলত ওপারে নাকি ভূত থাকে। ভূতগুলোকে মনে মনে দেখার ইচ্ছে হতো কিন্তু সেটা দুর থেকে। কাছ থেকে কখনো দেখার ইচ্ছে হয়নি! জলের মধ্যেও আমাদের অনেক রকম খেলা ছিল। জলকুমির, পানকৌড়ি, আর ডুব ডুব একশ ডুব!


Childhood memories


আমাদের এমনি অদ্ভূত অদ্ভূত সব খেলা ছিল। আর তাদের ছিল আলাদা আলাদা ছড়া।
দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুহাত উপর দিকে তুলে দাঁড়াতাম। আর মাঝখান থেকে লম্বা করে সারি বেঁধে সকলে বলতে বলতে গলে যেতাম-



“ওপেনটি বাইসকোপ
নাইন টেন টেসকোপ
চুলটানা বেবীআনা
সাহেব বাবুর বৈঠকখানা 
কাল বলেছে যেতে
পান সুপারি খেতে
পানের আগায় মৌরী বাটা
ইস্কাবনের ছবি আঁকা 
যার নাম রেণুবালা
তার গলায় দিলাম ফুলের মালা।”


সত্যি বলতে কি ছড়া কাটছি তার অর্থ আমাদের মাথাতেই থাকত না। কিন্তু মেশিনের মতো আউড়ে যেতাম। যেগুলো আজো ভুলিনি!


“ক খ গ ঘ ঙ
কে মেরেছে বলোনা
রাজার দিকে তাকালে 
খেলবনা খেলবনা খেলবনা”



তখন কতবার করে বলত, খেলবনা খেলবনা খেলব না। একটুও ভয় লাগত না! কারণ জানতাম কাল আবার সবাই খেলতে আসবে। কিন্তু সত্যি সত্যি আজ আর কেউ খেলতে আসে না! কারণ আমরাতো সবাই বড়ো হয়ে গেছি! সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। সবার জীবনের ভিন্ন ভিন্ন ওঠাপড়া। সংসার, বাচ্চা এখন সব বড় বড় খেলা! জীবনের খেলা। এখন আর বিকেল হলে কেউ খেলতে আসেনা। দুপুর না ঘুমিয়ে খেলতে যাওয়ার জন্য মাও আর বকেনা!

Childhood memories



কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে করে বিশ্বাস করুন। সেই সব মাঠ, সেই সব হারিয়ে যাওয়া মুখ, সেই সব খেলা আর সেই সব শৈশব! একটা আস্ত জীবনে সেগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না। তবু ইচ্ছে করে। এখনো গা-টা মাঝে মাঝে শিউরে ওঠে। মনে হয় দিদি দাদারা আবার ছোট হয়ে যাক। পুকুরের জলটা শুকিয়ে যাক। মাঠ গুলো ফুটে উঠুক। তারপর এমন এক দুপুরে মাকে টপকে দিদি এসে চুপিচুপি কানে এসে বলে যাক, সবাই এসে গেছে ভাই, তুই খেলতে যাবি না..........
?



© অলঙ্করণ: গুগল

এবং খোঁজ | বর্ষ ৫, শারদ সংখ্যা | ১৪৩০-৩১ বঙ্গাব্দ