শারদ
সংখ্যা
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, CPI (M), buddhadev bhattacharya, ভদ্রলোক, বাবু,


বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য 

জন্ম ১ মার্চ, ১৯৪৪, মৃত্যু ৮ আগস্ট, ২০২৪। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) CPI(M)-এর পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য তথা পশ্চিমবঙ্গের ৭ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ৬ নভেম্বর ২০০০ থেকে ১৩ মে ২০১১ পর্যন্ত। 


কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন তাঁর পিতা নেপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের মামাতো ভাই। আজীবন রবীন্দ্রানুরাগী সংস্কৃতিমনস্ক সাহিত্যিক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন - 


একগুচ্ছ বিদেশী কবিতার অনুবাদ ‘চেনা ফুলের গন্ধ’, ‘দুঃসময়’ (১৯৯৩), ‘পোকা’ (ফ্রানৎজ কাফকা রচিত ‘মেটামরফোসিস’ অবলম্বনে), ‘বিপন্ন জাহাজের নাবিক’ (কলম্বিয়ান লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘দ্য স্টোরি অফ আ শিপরেকেড সেলর’ উপন্যাসের অনুবাদ), কবি জীবনানন্দ দাশের এক ব্যতিক্রমী পাঠ ‘হৃদয়ের শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতর’ (১৯৯৭), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ও ছোট গল্প নিয়ে মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ ‘পুড়ে যায় জীবন নশ্বর’ (১৯৯৯), আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে ‘নাৎসি জার্মানির জন্ম ও মৃত্যু’, ‘স্বর্গের নীচে মহাবিশৃঙ্খলা’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 


২০২২ সালে তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানের জন্য মনোনীত করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।



মলয় রায়চৌধুরী, হাংরি আন্দোলন, হাংরিয়ালিজম



মলয় রায়চৌধুরী

জন্ম ২৯ অক্টোবর, ১৯৩৯; মৃত্যু ২৬ অক্টোবর, ২০২৩। ১৯৬০-এর দশকের হাংরি আন্দোলন —হাংরিয়ালিজম — তথা বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার জনক।


হাংরি জেনারেশনের এই কবি-সাহিত্যিকরা হলেন - সমীর রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবী রায় (হারাধন ধাড়া), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সন্দীপন চক্রবর্তী, বিনয় মজুমদার, সুবিমল বসাক প্রমুখ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০০-এর অধিক। ১৯৬৪ সালে হাংরি বুলেটিনে প্রকাশিত ‘প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার’ কবিতাটির জন্য মলয় রায়চৌধুরী অশ্লীলতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং ৩৫ মাসব্যাপী কোর্ট কেস চলে। কলকাতার নিম্ন আদালতে সাজা ঘোষণা হলেও, ১৯৬৭ সালে উচ্চ আদালতে অভিযোগমুক্ত হন। জাঁ জেনের সমস্ত কবিতা অনুবাদ করেছেন। বুদ্ধদেব বসুর পর প্রথম বাঙালি যিনি বোদলেয়ারের সমগ্র কবিতা অনুবাদ করেছেন। ‘শয়তানের মুখ’, ‘জখম’, ‘ডুব জলে যেটুকু প্রশ্বাস’, ‘নামগন্ধ চিৎকার সমগ্র’, ‘কৌণপের লুচিমাংস’, ‘মাথা কেটে পাঠাচ্ছি যত্ন করে রেখো’ প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।


২০০৩ সালে অনুবাদ সাহিত্যে তিনি ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।


‘হাংরি’ বলতে ‘ক্ষুধার্ত’ বোঝায় না। হাংরি শব্দটা IN THE SOWRE HUNGRY TYME থেকে নেয়া; অর্থাৎ পচনরত কালখণ্ডকে হাংরি বলা হয়। 

এবং খোঁজ | বর্ষ ৫, শারদ সংখ্যা | ১৪৩০-৩১ বঙ্গাব্দ