সংখ্যা
![]() |
অলঙ্করণ : বিং |
ছড়া
দিব্যেন্দু হালদার
পাহাড় চুরি
দার্জিলিংয়ে পাহাড় চুরির খবরখানা পেয়ে
পৌঁছে গেলুম স্পেশাল ট্রেনে গোয়েনদাকে নিয়ে।
খবর শুনেই গোয়েনদাদা চার পায়েতে রাজি
পণ করেছে ধরবে সে চোর, পাঁচশো টাকার বাজি।
পৌঁছে দেখি কেলেঙ্কারি―আস্ত পাহাড় হাওয়া
কোন সকালে হারিয়ে গেছে, যাচ্ছে নাকো পাওয়া।
কনকনে শীত পড়ছে বরফ তারমধ্যেই খুঁজে
কোথায় গেল পাহাড়খানি! পাচ্ছি না ছাই বুঝে।
সত্যি গেছে পাহাড় চুরি―গোয়েনদাকে বলতে,
গাট্টা দিল বেজায় জোরে, কান টানল মুলতে।
পাহাড়ের কি হাত পা আছে! চলবে বুঝি হেঁটে
ঘাড়ে করে নিয়ে যাবে, বীর হনুমান? বটে...
গোয়েনদাদার মতলব কি বুঝছি না ভাই কিছু
ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা নিয়ে ঘুরছি পিছু পিছু।
এমন সময় চেঁচিয়ে বলে, ইউরেকা ইউরেকা
রেডি রাখিস কড়কড়ে নোট নগদ পাঁচশো টাকা।
পাহাড় আছে পাহারাতেই, এই কথাটি জানিস
মেঘ কুয়াশায় ঢাকা পড়েই এখন কেবল ভ্যানিশ।
রামদা
এপাড়ার রামদা করে কী যে ধান্দা
কেউ তার পায়নি তো খোঁজ
যায় খুব সকালে আসে ঠিক বিকেলে
ডিউটির মতো রোজ রোজ।
চাকরি যে করে না থাকে তবু ঘরে না
ব্যাপারটা যেন ভারি ফিশি
চুল-দাড়ি বড় নেই ফর্মাল পরনেই
নয় জানি সে তো মুনি-ঋষি।
তবে কি ব্যাটা চোর দেখিয়ে গায়ের জোর
করে কিনা কে-জানে ছিনতাই!
এতসব ভেবে কথা আর নেই নীরবতা
সারা পাড়া আছে দুশ্চিন্তায়।
নেতা বড়, পটলা করে এক জটলা
রামদাকে দিতে গেল ভরকে
শুনছ রামদা কী করো কামডা
কও তুমি গ্রাম-পাড়া-ঘরকে।
নাহলি দেখবা মজা প্রাণ যাবে তরতাজা
চাও কি অকালে তুমি মরতে?
এই শোন ব্যাটা রাম ছেড়ে পালা ধরা ধাম
নইলে পুঁতে দেব গর্তে।
পেয়ে এই হুমকি রামদার কাম কী
সেইটাই ভুলে গেল নিজে
ভয়ে ভয়ে তখনই তোমরা তো দেখনি
রামদার প্যান্ট গেল ভিজে।
সেকী হাসি সব্বার পটলাও গব্বর
ভাব ছেড়ে হেসে আর বাঁচে না
এ ব্যাটা করবে চুরি! ছিনতাই থুক্কুরি
এত সাহস যেন ওর আছে না?
যে যার ফিরলে ঘরে রামদাও কেটে পড়ে
খুঁজতে ঘরের তালা-চাবিটা
চলে যাবে নির্জনে লিখবে সে একমনে
আজীবন রাশি রাশি কবিতা।